Skip to main content

নতুন বছরে মুমিন ব্যক্তির প্রত্যাশা

সময় যত গড়ায় মানুষের ভাগ্যের চাকাও ততো সামনে এগিয়ে চলে। আদিম মানুষগুলোর জীবনের সঙ্গে আমাদের জীবনের কত পার্থক্য, কত তারতম্য! কীভাবে তা সম্ভব হয়েছে? আসলে কালের আবর্তনই তাদের ও আমাদের মাঝে এই তারতম্য এনে দিয়েছে। সুতরাং একটি বছরের বিদায় এবং নতুন আরেকটি বছরের আগমন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তাৎপর্যপূর্ণ বলেই অন্যান্য জরুরি কাজের মতো বর্ষগণনাকেও জরুরি বলে মনে করা হয়। আর যারা বুদ্ধিমান তারা বর্ষ গমনাগমনের মধ্যে জীবনের হিসাব মেলান। গত হয়ে যাওয়া বছরটির প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির অংক কষেন এবং আগত বছরটিকে নতুন করে, নতুন উদ্যমে বরণ করার প্রস্তুতি নেন।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং তাদেরকে আল্লাহর দিবসগুলো দ্বারা উপদেশ দিন। নিশ্চয় এতে ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ লোকদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। (সূরা ইবরাহীম : ৫) আলোচ্য আয়াতে সেসব দিবসের কথা বলা হয়েছে, যাতে মানবজাতির জয়-পরাজয়, উত্থান-পতনের ঘটনা ঘটেছে। বস্তুত, সচেতনতা এবং যথার্থ উপলব্ধি মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে। একটি নতুন বছরের আগমনে আমাদের করণীয় এবং নতুন বছরটিকে কীভাবে বরণ করা হবে- এর সঠিক ধারণা জানা না থাকলে ক্ষণিকের উৎসবই আমাদের কাছে মুখ্য বলে মনে হবে। থার্টি ফার্স্ট নাইটের আনন্দ উৎসবের ম্লান হয়ে যাবে আগত বছরটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ছাড়াও শুধু এই মানসিকতাই সমাজে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার জন্য যথেষ্ট।

আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তো এই দিনের, এই উৎসবের আলাদা কোনো মূল্য ও গুরুত্ব নেই। অন্যান্য দিন ও রাতের মতোই এর অবস্থান। এমনকি হিজরি সালের সঙ্গে যেখানে মুসলমানদের বিশেষ ঐতিহ্য নিহিত রয়েছে সেখানেও বর্ষবরণের নামে মাতামাতির অনুমোদন দেয়া হয়নি। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে কোনো দিন বা রাত উদযাপন করতে চাইলে আল্লাহ প্রদত্ত মর্যাদাপূর্ণ দিন ও রাতগুলোকে শরিয়তপ্রদত্ত পন্থাতেই উদযাপন ও পালন করা বাঞ্ছনীয়। এ কথার অর্থ এ নয় যে, নতুন একটি বছর শুরু হওয়া বা বর্ষবরণ করার কোনোই গুরুত্ব নেই। কিন্তু হৈ-হল্লা আর বেলেল্লাপনার মধ্য দিয়ে নতুন বছরটি বরণ করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। বরং রাষ্ট্র, সমাজ এবং নিজের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ সাধনের দৃঢ়প্রত্যয় এবং সে অনুযায়ী কর্মসূচী নির্ধারণ করে নতুন বছরটিকে বরণ করে নিতে হবে। আর মুসলমানদের তো উৎসবের পরিবর্তে পরকালীন সফলতার প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে , অতীত ও ভবিষ্যতের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মাস ও প্রতিটি বছর আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। সময়ের মূল্য দিতে পারলেই কেবল সফল হওয়া যাবে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা বিগত দিনগুলোতে যে সৎ আমল করতে তার বিনিময়ে আজ জান্নাতে ইচ্ছে মত খাও এবং পান করো। (সূরা- আলহাক্কাহ : ১৪) সুতরাং আমরা নতুন বছরকে নতুনভাবে সাজানোর এবং সত্য-সুন্দর ও উন্নয়নের প্রত্যয়ে ২০১৯ ইংরেজি নবর্বষকে স্বাগত জানাই।