Skip to main content

দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে বাণিজ্য মেলায় 

পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসছেন দর্শনার্থীরা। মা-বাবার সঙ্গে রয়েছে ছোট্ট শিশুরা। বন্ধুদের নিয়ে যারা এসেছেন, সবাই মিলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক-ওদিক। কেউ কেউ সময় বন্দি করছে সেলফিতে। এ স্টল, ও স্টল ঘুরেফিরে কেউ কেউ পণ্যও কিনছেন। 

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার চতুর্থ দিন দুপুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সকাল থেকে মেলা ঘুরে দেখা গেল, শীতের সকাল হলেও মেলায় দর্শনার্থীর কমতি নেই। মূল ফটকের বাইরে গাড়ি পার্কিংয়ের দীর্ঘ লাইনও সে কথাই জানান দেয়। যদিও মেলা শুরুর পর এখনও তৈরি হয়নি সব স্টল বা প্যাভিলিয়ন। কিছু কিছু স্টলে এখনও চলছে সাজগোজের কাজ, কোনো কোনো স্টলে এখনও কোনো পণ্য ওঠেনি।

শান্তিনগর থেকে ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাণিজ্যমেলায় এসেছেন আরিফ উদ্দিন তিনি বলেন,  ছেলেমেয়ে  ছোট তাই  মেলায় ঘুরতে এবং কিছু কেনাকাটার জন্য নিয়ে এসেছি।  কেনাকাটা শুরু করেছি, কিছু কিছু করছি। তবে এখনও সব স্টল বা প্যাভিলিয়ন গুছিয়ে উঠতে পারেনি। তবে এবার মেলার পরিবেশ  মোটামুটি ভালোই।
কেরানীগঞ্জে থেকে শিশু তালহাকে নিয়ে মেলায় এসেছেন বাবা বিল্লাল হোসেন। সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও রয়েছেন। তিনি বলেন, মেলা উপলক্ষে ঢাকায় আসা। কেনাকাটা করছি। ঘরের জিনিসত্র ছাড়াও ছেলের জন্য চকলেট কিনেছি। কেনাকাটা আরও বাকি। 

এছাড়া মেলা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দর্শনার্থীদের ভিড়। সবাই খুশি তেমন পণ্য কেনাকাটা করছেন বিভিন্ন স্টলে । তবে ঘরের আসবাবপত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, ফাস্টফুড ও আইসক্রিমের দোকানগুলোতেই ভিড় বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্যমেলা জমতে শুরু করেছে। সাধারণ দিনের চেয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি হয়ে থাকে। 
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর উপপরিচালক ও বাণিজ্যমেলার সদস্য সচিব আবদুর রউফ বলেন, এরই মধ্যে  মেলা জমতে শুরু করেছে। 

এবারের বাণিজ্যমেলার মূল ফটক তৈরি করা হয়েছে  মেট্রো রেলের আদলে। মূল ফটক দিয়ে ঢুকতেই  চোখে পড়বে ডিজিটাল এক্সিপেরিয়েন্স সেন্টার। চারটি টাচ স্ক্রিন কম্পিউটার রয়েছে এতে। দিকনির্দেশনা দিতে রয়েছেন একজন কর্মকর্তাও। এই সেন্টারে ঢুকে যে স্টল বা প্যাভিলিয়নে যেতে চান তার অবস্থান  জেনে নেওয়া যাবে সহজে। ডিজিটাল উন্নয়নকে জানান দিতে আধুনিক এই পদ্ধতির সংযোজন এবারের  মেলায়।

এছাড়া, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সবই তুলে ধরা হয়েছে মেলায়। গতবারের মতো এবারও আছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। এর সামনে সারি সারি সাজানো নৌকা। ভেতরেও এবার স্থান বেশি। বরাবরের মতোই এবারের মেলাতেও ইপিবি’র তথ্যকেন্দ্র, বিশ্রামস্থল, রক্তদান ও প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রও রয়েছে। মেলা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২২ দেশের ৫২ প্রতিষ্ঠান এবার মেলায় অংশ নিয়েছে।  দেশগুলো হলো, থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম,যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিন্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মারিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।

ইপিবি জানিয়েছে, ৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া মেলা শেষ হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।  মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। এবারের মেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৬০৫। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য মেলায় রয়েছে পর্যাপ্ত সবুজ চত্বর। বিশ্রামের জন্য আছে আরামদায়ক ওস শোভন বেঞ্চ। মেলা প্রাঙ্গণ হকার ও ভিক্ষুকমুক্ত। শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে শিশু পার্ক। রয়েছে মা ও শিশু কেন্দ্র আর খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে আছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে পৃথক বুথ। 

সম্পাদনা: শাহীন চৌধুরী। 
 

অন্যান্য সংবাদ