Skip to main content

ত্রুটিপূর্ণ রপ্তানী প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতিতে পড়েন আম চাষী

কোন বছরই আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় না। চলতি মৌসুমে কি পরিমাণ আম রপ্তানি হবে তা আম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের (আমচাষী, আম রপ্তানিকারক, স্থানীয় কৃষি বিভাগ, আম গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসন) কেউ জানেন না। রপ্তানির পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজরে আসে ফলে কিছু করার সুযোগ থাকে না। এধরণের জগাখিচুড়ি আর ত্রুটিপূর্ণ রপ্তানী প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত ক্ষতিতে পড়েন দেশের আম চাষীরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আম গবেষক ও বিশেষজ্ঞ, আম চাষী এবং রপ্তানীকারকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা জানা গেছে। 

আলাদা আলাদাভাবে হলেও প্রায় অভিন্ন কথায় সংশ্লিষ্টরা জানান, ভালো হলেও আম রপ্তানিতে কন্ট্রাক্ট ফামিং পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। প্রতি বছর আম সংগ্রহ করার পরপরই সংযোগ চাষীর সাথে চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয় না। আম রপ্তানি শুরুর আগে তাড়াহুড়ো করে সাদা কাগজে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৌখিকভাবে নামেমাত্র চুক্তি করা হয়। যেখানে গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলোর একটিও উল্লেখ থাকে না। কোন জাতের আম, কখন নেওয়া হবে, কত টাকা কেজি হিসেবে নিবেন এবং কত টন আম নিবেন। সাদা কাগজে চুক্তির কোন বৈধতা বা আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে চাষীরা তাদের নিজেদের খেয়াল খুশিমত আম উৎপাদন ও রপ্তানীকারকরা চুক্তি ভঙ্গ করে বাইরের বাজার থেকে আম কিনে রপ্তানী করেন। চুক্তিতে কৃষকের এবং রপ্তানীকারকদের বাধ্যবাধকতা ও স্বার্থের বিষয়ে কোনো কথাই থাকে না। 

হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অথবা নারায়নগঞ্জের শ্যামপুরে আমের কোয়ারেন্টাইন পরীক্ষা শেষ করা হয়। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, চাষী প্রথমে আমবাগান থেকে আম কিনে প্যাকিং করে রপ্তানির জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসেন। সেখান থেকে রপ্তানিকারকেরা আম বাছাই করে কিনে থাকেন এবং  ফের প্যাকিং করে নারায়নগঞ্জের শ্যামপুরে যান। সেখানে  আবার খোলা হয় এবং কোয়ারেন্টাইন পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত কার্টুনে প্যাকিং করা হয়। পরিবহনের সময় ঘর্ষণে আমের গায়ে দাগ পড়ে এবং ৫০-৬০ ভাগ আম বাদ পড়ে যায়। 
বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, একজন রপ্তানিকারক রপ্তানির জন্য চাষীর কাছ থেকে ১০০০ কেজি কিনলেও কোয়ারেন্টাইন পরীক্ষায় ৫০০-৬০০ কেজি আম বাতিল করা হয়। এতে আমদানিকারকের চাহিদানুযায়ী এয়ারস্পেস বুকিং করে আম পাঠাতে না পেরে রপ্তানীকারকরা ক্ষতিতে পড়েন। ক্রমাগত এই দূরাবস্থা মধ্যে পড়ে এক সময়ে তাদের অনেকে আম রপ্তানী বন্ধ করে দেন।  

এই ঝুক্কি-ঝামেলা এড়াতে রপ্তানিকারকেরা চুক্তিবদ্ধ বা সংযোগ চাষীদের কাছ থেকে না নিয়ে ঢাকার স্থানীয় বাজার বা আড়ৎ হতে আম কিনে রপ্তানি করে থাকেন। গত বছরের (২০১৭-১৮) আম রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষনে বিষয়টি  খোলসা (স্পষ্ট) হয়ে ওঠে। 

আম উৎপাদন ও রপ্তানীর জন্য বাছাইকরা এলাকা বলে পরিচিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মেহেরপুরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আকতারুজ্জামান বলেন, গত অর্থবছরে ওরা (রপ্তানীকারকরা) মেহেরপুরে আসেনি। এর আগের বছর এখানে এসে মৌখিকভাবে চাষীদের সঙ্গে চুক্তি করেও শেষ পর্যন্ত পুরো আম কেনেনি রপ্তানীকারকরা। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে চাষিরা রপ্তানী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এবছর এখনো রপ্তানীকারকরা আম কেনার জন্য চাষীদের সঙ্গে চুক্তি করতে আসেনি। যদিও এখনও সময় আছে। সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসে এই চুক্তি করার কথা। আমরা সব সময় চাষীদের স্বার্থ সংক্ষণের পক্ষে।  তবে চাষী ও রপ্তানীকারকদের মধ্যের চুক্তিতে উইন উইন সিচুয়েশণ বজায় থাকুক।