Skip to main content

তীব্র শীতে, জেলে শূণ্যে নদী

মেঘনার পাড়ে মাছ ঘাট গুলো শূণ্যে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতিরিক্ত শীতের কারণে জেলেরা মাছ শিকারে যায় না। মা ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞার পর জাটকা ধরা নিষিদ্ধ ছিল। তখন নদীতে জেলেরা মাছ শিকারে যায় নি। নিষেধাজ্ঞার পর মাছ শিকারে গেলে তেমন মাছ পায় না বলেও অনেক জেলে জানান।

রামগতি-কমলনগর আলেকজান্ডার মাছ ঘাট, বালুরচর মাছ ঘাট,জারিরদোনা মাছ ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট, লুধুয়া ঘাট, মাতাব্বর হাট মাছ ঘাট, কাদিরপন্ডিতের হাট মাছ ঘাট, বাত্তিরখাল মাছ ঘাট,মতিরহাট মাছ ঘাট ঘুরে ভিন্নপেক্ষাপট দেখা যায়। নদীতে জেলে শূণ্যে ফাঁকা নদী, অন্যদিকে ঘাট শূণ্যে মাছ এবং ক্রেতা-বিক্রেতা। 

এদিকে রামগতি-কমলনগরে আলেকজান্ডার-মতিরহাট-মাতাব্বর হাট নদী ভাঙন বাঁধে কিছুটা পর্যটকে ব্যস্ত থাকে। শীতের কারণে পর্যটকেরও দেখা মিলে না।


জেলে কাউছার জানান, নদীতে মাছ ধরতে যায় না। কারণ অতিরিক্ত শীত পড়ে। মাছ কিছুটা কম পাওয়া গেলে জেলেরা মাছ ধরতে যেত । কিন্তু অতিরিক্ত শীতের কারণে মোটেও পাওয়া যায় না। জেলেরা যায় না।

আঃ মতিন মাঝি জানান, নদীতে মাছ খুব কম পড়ে। ইলিশের দেখা তেমন মিলে না। অন্যান্য মাছ মিলে। তবে শীতের কারণে জেলেরা মাছ ধরতে যায় না। 
জীবনযাত্রা কেমন চলে জানতে চাইলে, আয়ুব,কালাম,কালু,মফিজ জানান, শীতের কারণে নদীতে মাছ ধরতে যায় না। দিনকাল কোন মতে চলে। শীত কমলে মাঝেমধ্যে যায়।  

 প্রায় নদী শূণ্যে নৌকা দেখা যায়। শীতের প্রকোট বেশি হওয়ায় নদীর পাশে কিছু ডিংগি নৌকা দেখা যায়। তারা নদীর পাশে কিছুক্ষণ জাল পেলে নৌকাতে বসে থাকে। কিছু মাছ পেলে কোনমতে দিন চালায়। 
স্থানীয় বাজারের নদীর মাছ তেমন দেখা যায় না। আবার কোন কোন সময় প্রায় দেখা যায়। বাজারে এখন পুকুর,প্রজেক্টের মাছ যেমন রুই,কাতল,কারপু,কই,তেলাফিয়া,বিগেট, পাঙগাস সহ বিপ্রজাতির মাছ দেখা যায়।

মতিরহাট মাছ ঘাট সভাপতি মেহেদী হাছান লিটন জানান, প্রচুর শীতের কারণে জেলেরা মাছ ধরতে যায় না। মাছ ঘাটগুলো মাছ শূণ্যে। শতকরা পাঁচজন জীবণের তাগিদে যায়। তবে তারা মাঝে মাঝে মাছ শূন্যে খালি হাতে ফিরে। এবারে ব্যবসায় প্রচুর লোকসান হবে।


রামগতি-কমলনগর প্রায় তিনথেকে চারশত জেলে নদীতে মাছ শিকার করে। নিষেধাজ্ঞা সহ বিভিন্ন কারণে এরা প্রায় বেকার থাকে।সরকারী সুবিধা সবাই পায় না। কিছু জেলে পেলেও বিরম্বনার শিকার হয়। এসব অঞ্চলে জেলে কার্ড করাতে জেলেদের টাকা দিতে হয়।কার্ড হলেও সুবিধা পেতে সময় লাগে।তাই বেশিরভাগই সুবিধা বঞ্চিত হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস জানান, শীতের মৌসুমে নদীতে মাছ কম যাতায়াত করে। জোয়ারভাটা কারণেও মাছ কিনারায় কম আসে। শীতে জোয়ারভাটা কম হয়। পানির নাব্যতা কম থাকে।  তাছাড়া জেলেরা শীতে নদীতে খুব কমই মাছ ধরতে যায়। এসব কারণে মাছবাজার - ঘাটে সামদ্রিক মাছ কম দেখায়।