Skip to main content

ডয়েচে ভেলে বলছে, শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিতে কুণ্ঠায় পশ্চিমারা!

আসিফুজ্জামান পৃথিল : বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন এবং ফলাফল নিয়ে বৃহস্পতিবার এক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলেতে। এই নিবন্ধে নির্বাচন, নির্বাচনী সহিংসতা এবং নির্বাচনের পরবর্তী সময় বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া বলা হয়েছে। নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয়ে আবারও ক্ষমতায় আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসনের ২৮৮টিতে জয় পেয়েছে। এদিকে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মাত্র ৮টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। ডয়েচে ভেলে। 

নির্বঅচনটি ছিলো রক্তাক্ত সহিংসতাপূর্ণ। বিরোধীদল নির্বঅচনী ফলাফল প্রত্যাখান করে বড় ধরণের কারচুপির অভিযোগ এনেছ। অভিযোগ রয়েছে ভোটারদের বাঁধা দেওয়ারও। ভোট জালিয়াতির এতসব অভিযোগের পরেও ভারত, রাশিয়া চীনের মতো দেশ এই ভূমিধ্বস বিজয়ের জন্য শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে একদম সময় নেয়নি। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো নির্বঅচনী সহিংসতা এবং কারচুপির নিন্দা জ্ঞাপন করেছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা কোন ব্যবস্থা নেবে না। ইউরোপিয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নির্বাচনের দিন সহিংসতা হয়েছে এবং নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এর অভাব পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই কলঙ্কিত করেছে।’ ইউরোপিয় ইউনিয়ন এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগকারী যুক্তরাষ্ট্রও এই নির্বাচনের পূর্ব সময়ে নীপিড়ন, বাঁধা প্রদান এবং সহিংসতার ‘বিশ^াসযোগ্য প্রতিবেদনের’ বিষয়ে নিন্দাজ্ঞাপন করেছে। 

তবে পশ্চিমা দেশগুলোর এইসকল বিবৃতির কোন প্রভাবই ক্ষমতাশীন দলের উপরে পরেনি। নির্বঅচন কমিশনও এর প্রভাবমুক্ত। ভোট জালিয়াতির তদন্তের বিষয়ে কোন ধরণের আগ্রহই দেখায়নি নির্বাচন কমিশন। তাদের দাবি বিশে^র কোন দেশই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করেনি। সবচেয়ে বড়া কথা নির্বঅচনী ফলের ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই নতুন সরকার গঠন হয়ে গেছে। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়ন স্টেট বিশ^বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিস্টিংগুইশ প্রফেসর ড. আলি রিয়াজ ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোর এই নিশ্চুপ প্রতিক্রিয়া অবাক করার মতো। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে চাপ প্রয়োগের পর পর তাদের এই প্রতিক্রিয়া আমার কাছে বিভ্রান্তিকর। তবে এটিও মনে রাখতে হবে ভারত, চীন বা রাশিয়ার মতো এই দেশগুলো কোন অভিনন্দন বার্তা পাঠায়নি।’ 

পশ্চিমা দেশগুলোর এই নির্বাচনী ফলাফলে নিশ্চিুম থাকার অন্যতম কারণ সম্ভবত বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নতি। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের নানান খাতে বিশেষত বিদ্যুৎ ও টেলিকম খাতে চোখে পড়ার মতো পশ্চিমা বিনিয়োগ রয়েছে। এর চেরেয়ও বড় কথা ১ বছর আগে বাংলাদেশ বিনা প্রশ্নে সব মিলিয়ে ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। পশ্চিমারা স্বাভাবিকভাবেই শেখ হাসিনার বিষয়ে সন্তুষ্ট। এই বিষয়ে আলি রিয়াজ বলেন, ‘হাসিনা সরকার শুধুমাত্র আশ্রয় নিশ্চিত করেছে তাইই নয়, সরকার সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িকতা এবং সন্ত্রাস রুখতেও সফল হয়েছে।’ 
 

অন্যান্য সংবাদ