Skip to main content

ঠাকুরগাঁওয়ে ঠান্ডা জনিত শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, মৃত্যু-৪ 

শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত শিশু রোগির সংখ্যা বেড়ে চলেছে। প্রতিদিনই ৬০ থেকে ৭০টি শিশু ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডাক্তার ও নার্সরা চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন। গত ৭দিনে চারশিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন বয়সের শিশুদের ঠান্ডা জনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া এবং ব্রঙ্কাাইটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত সাত দিনে ৬ শ’র বেশি শিশুকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ৫শ’ রোগির বেশিরভাগই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, অদক্ষ নার্সরা কাংখিত সেবা দিতে ব্যর্থ হচেছ। সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরে থেকে ঔষুধ কিনতে হচ্ছে। সেবা না পেয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হচ্ছে।

সদর উপজেলার রহিমানপুর গ্রাম থেকে আসা ১৩ মাসের শিশু নাজনীন আক্তারের নানি রহিমা বেগম বলেন, শীতে ঠান্ডা লেগে নাতনির সর্দি-কাশি দেখা দেয়। তার সঙ্গে জ্বর। তাই ৭দিন ধরে হাসপালে ভর্তি রয়েছেন।কিন্তু চিকিৎসা ঠিকমত হচ্ছে না। হাসপাতাল থেকে কোন ঔষধ দিচ্ছে না। সব ঔষধ বাহিরে থেকে কিনে আনতে বলছে নার্সরা। তিনি অভিযোগ করে বলেন নার্সরা কাছে অদক্ষ ইন্জেকশন দিতে শিখেনি। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোরাচ্ছে এবং রক্ত বের করে দিচ্ছে। এতে শীরের ঘা হচেছ । 

সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ২ বছর বয়সী রবিউলের বাবার একই অভিযোগ। 

তিনি বলেন, ছেলেকে গতকাল ভর্তি করা হয়েছে। একটি মাত্র ইন্জেকশন এখান থেকে দিয়েছে। ১২/১৩’শ টাকার ঔষধ আমাকে বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছে ঔষধ পত্র সব কিছু ফ্রি দেয়া হয় । কিন্তু আমরা পাচিছ না কেন?

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা.শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, শীতের প্রকৌপ বেশি বলে সর্দি, কাশি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রোগ বেড়েছে। তবে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। রোগীরা ঔষুধপত্র পাচ্ছে না এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেন রোগীর সংখ্যা বেশী হওয়ায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।