Skip to main content

জুলাইয়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে তারেককে

জুলাইয়ের মধ্যে লন্ডনে পলাতক দণ্ডিত আসামি তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকৌশলের মধ্যে রয়েছে তারা ফ্রেব্রুয়ারির মধ্যে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিপ্লোমেটিক নেগোসিয়েশন শেষ করতে চায়। দুই দেশের একটি চুক্তি স্বাক্ষর চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তি। যেখানে একটি দেশে দণ্ড পেলে তাকে ওই দেশে ফেরত দেয়া হয়। সেই চুক্তিটি তারা মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করতে চায়। জুলাইয়ের মধ্যে তারেকের দেশে আসা নিশ্চিত করতে চায়। জুলাই নাগাদ তারেককে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে। যোগাযোগ করা হলে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘তারেককে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য যা যা করার দরকার। আমরা সবই করছি। এরকম দণ্ডিত ব্যাক্তির বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার।’

আওয়ামী লীগ সরকার নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনেকগুলো কাজ দেখছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তালিকা তৈরিরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে তারেক জিয়াসহ দণ্ডিত পলাতকদের ফিরিয়ে নিয়ে আসা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্যতম ইস্যু বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আব্দুল মোমেন বলেছেন, যে সমস্ত দণ্ডিতরা দণ্ড এড়াতে বিদেশে পালিয়ে আছে। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসাটা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন যে, শুধু তারেক জিয়া নয়। ১৫ আগস্টের যারা খুনি, তারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন। তাদের নিয়ে আসার জন্য আমরা বিভিন্ন সময়ে তৎপরতা চালিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা সফল হতে পারিনি। এবার নিশ্চয়ই আমরা সফল হবো।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একটি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। তিনি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গত বছরের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে তারেককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে তারেক জিয়া বলেছিল, তাকে দেশে নিয়ে গিয়ে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করা হবে। এজন্য তিনি দেশে যেতে আগ্রহী নন। তার এই বক্তব্যের সমর্থনে তিনি ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলার যে কার্যক্রম, সে কার্যক্রমের তথ্যাদি ব্রিটিশ হোম ডিপার্টমেন্টের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু এই মামলায় তারেকের মৃত্যুদণ্ড হয়নি, যাবজ্জীবন হয়েছে।

এই মামলার রায়ের পর সরকার আবার যুক্তরাজ্যের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে। গত ১৯ ডিসেম্বর এ ব্যাপারে একটি শুনানি শুরু হয়েছে। যে শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তারেকের আইনজীবী একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে অঙ্গিকার করেছিলেন, তিনি আরেকবার ক্ষমতায় এলে দণ্ডিত আসামি তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার দণ্ড কার্যকর করা হবে। সেই প্রত্যয় অনুযায়ী নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণের পরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটাকে প্রথম কাজ বিবেচনা করছেন। কিন্তু ব্রিটেনে এখন বেক্সিট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হওয়া নিয়ে টালমাতাল অবস্থা চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, ব্রিটেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটু ভালো হলেই তারা, বিটিশ সরকারের সঙ্গে তারেকের ফিরিয়ে আনা নিয়ে আলাপ আলোচনা করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, তারেককে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এবং এর পক্ষে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং তথ্যাদি আছে। তারা মনে করছেন ৫টি কারণে ব্রিটেন বাংলাদেশের কাছে তারেক জিয়াকে ফেরত দিতে বাধ্য:

১. তারেক জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্থ রয়েছে। ব্রিটেনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং ল’ অনুযায়ী অর্থিকভাবে অস্বচ্ছ এবং আর্থিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্থ কেউ রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রাখেন না।

২. তারেক জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদের যোগাযোগ রয়েছে। ব্রিটেনের আইন অনুযায়ী জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাধের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর নীতি। যারা এ ধরনের জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাদেরকে ব্রিটেনে আশ্রয় দেয়া হয় না। তাকে ব্রিটেনে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।

৩. তারেক ব্রিটেনে থেকে একটি দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, নাশকতার পরিকল্পনা এবং নানা রকম সহিংসতা ঘটানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছে। এ ধরনের প্রমাণ বাংলাদেশ সরকারের কাছে আছে। এই প্রমাণের প্রেক্ষিতে ব্রিটেনের আইন অনুযায়ী সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে কেউ যদি দেশে সহিংসতা বা নাশকতা সৃষ্টি করতে চায়। তাহলে তার রাজৈনৈতিক আশ্রয় লাভের অধিকার খর্ব হয়ে যায়।

৪. তারেক জিয়া যেহেতু দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। দুটি মামলার একটাতেও তার মৃত্যুদণ্ড হয়নি। তার এই দণ্ডটা কার্যকরের জন্য সর্বোচ্চ আদালতের বিচার এখনো বাকি আছে। কাজেই ন্যায় বিচারের স্বার্থেই তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করে তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফেরত দেওয়া উচিত।

৫. তারেক জিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের যে প্রক্রিয়াটা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় তারেক জিয়া অনেকগুলো মিথ্যে এবং ভুল তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেছিল।

কাজেই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন যে ৫টি যুক্তি দেখানো হয়েছে। এই যুক্তিগুলো সঠিকভাবে যদি যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারেন। তাহলে তারেক জিয়াকে ফেরানো সময়ের ব্যাপার মাত্র। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই পররাষ্ট্র দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে তারেককে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বৈঠক করেছেন। সেখানে তারা কৌশলগত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছেন। তারা টার্গেট নির্ধারণ করছেন যে, আগামী জুলাই নাগাদ তারেককে যেন বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

অন্যান্য সংবাদ