Skip to main content

গনেশ যদি উল্টে যেতো প্রাণেশ^রের চেহারা কেমন হতো?

যদি  নির্বাচনে অন্য দল জিতে সরকার গঠন করতে পারতো, তাহলে কিছু মুখোশধারী লোকের অবস্থান, আচরণ, কথা-বার্তা কেমন হতো? প্রিয় সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না ভাই নির্বাচনের পরপরই এরকম একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তিনি তার স্বগোত্র কিছু সাংবাদিক টকশোজীবীদের কি করুণ হাল হতে পারতো, তার একটি রেখাচিত্র অঙ্কনের চেষ্টা করেছিলেন। আমি আমার গোত্রকুলের কারো কারো কি ধরনের চেহারা হতো তা অনুমান করার চেষ্টা করছি।

প্রথমেই বলে রাখি সব দলেই বেশির ভাগ কর্মী সমর্থকরা নিবেদিত নিষ্ঠাবান। অতি স্বল্প সংখ্যক থাকেন যারা দলের জার্সি পড়ে থাকেন, বিভিন্ন কমিটিতেও থাকেন এবং দল ক্ষমতায় থাকলে হালুয়া-রুটির বেশির ভাগ ভক্ষণ করেন। কেননা নিষ্ঠাবান কর্মীদের চেয়ে তারা বেশি চতুর, নিজকে বেশি দৃশ্যমান রাখে। দল ক্ষমতায় না থাকলেও তারা দলের জার্সি গায়ে রাখে ঠিকই, কিন্তু আচরণ স্বভাবে রূপ পরিবর্তন করে, যাতে তখনো সরকারি আনুকূল্য, সুবিধা ষোলো আনা পাওয়া যায়। তারা দলের জার্সি বদল না করেও যখন যে দল ক্ষমতায় বা ব্যক্তি ক্ষমতায় থাকে তার তাবেদারিতে ওস্তাদ, যাতে সর্বাবস্থায় নিজের কায়েমি স্বার্থ উদ্ধার হয়। শুধু এরকম গুটিকয়েক ধান্দাবাজের চেহারা কেমন হতো সেটি জানার কৌতূহল।

চাঁদের একটি অংশ মাত্র আমরা আজীবন দেখে আসছি। কোনোদিনই এর অপর অংশ পৃথিবী থেকে দেখা যাবে না। তাই সব অনুসন্ধানী মন পরম কৌতুহলভরে আশায় থাকে চাঁদের সে অদেখা, অজানা দিকটি জানা দেখার। সুখবর হচ্ছে কিছুদিন আগে এই প্রথমবারের মতন চীনের একটি রোবট চাঁদের সেই কখনো না দেখা অংশে সফলভাবে অবতরন করতে সক্ষম হয়েছে। মানব জাতি প্রথমবারের মতন সেইচির ঢেকেরাখা মুখোশ খুলতে পেরেছে।

আমাদের চারপাশে এমন কিছু ধুরন্ধর, সুবিধাবাদী, সুযোগ সন্ধানী মুখোশ পরা লোক রয়েছে যে আমরা কখন মুখোশের আড়ালে তাদের যে আসল চেহারা তা দেখতে পাই না (চাঁদের অপর পিঠের মতন) ওই রকম মুখোশধারীদের প্রকৃত চেহারা তখন কেমন দেখাতো যদি অন্য কোন দল  সরকার গঠন করতে পারতো? দুটি গ্রুপের দুই অবস্থা : নিজেদের আখের গোছাতে, সুবিধা নিতে যারা বর্তমান  সরকারের গুণকীর্তনে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেÑ এরকমআলাল-দুলালজাতীয় মুখোশধারী কম ঈমানের লোকগুলোর অবস্থান, আচরণ যেমন হতো, তা রীতিমতো উপভোগ করার মতন হতো নিঃসন্দেহে। তারা জার্সি রেখে ব্যক্তি বা সরকারের আনুকূল্য পেতে তখন এমন ভালো মানুষ, অনুগত তেলচটচটে ভাব ধরতো যা রীতিমতো দেখার বিষয়, (ভাগ্যিস আলাল-দুলালদের সেই ভোল পাল্টানো ডিগবাজির চেহারা আমাদের দেখতে হলো না) ২। যারা তলে তলে ভিন্ন গ্রুপের কিন্তু সাহসের অভাবে বা সুবিধা নিতে সরকারের সঙ্গে তালমিলেয়ে চলছেÑ তাদের আসল চেহারা জাতিকে দেখতে না হওয়াতে আমরা বেচে গেছি।

এতোদিন যারা ঘাপটি মেরে বসেছিলো, সুবোধ বালকের মতন হাওয়া বুঝে পাল তুলেছে, যতোটুকু সুযোগ-সুবিধা নিতে পারার নিয়েছে, ক্ষমতা বদল হলে সেই মুখোশধারীদের প্রকৃত চন্ডাল মূর্তি জাতি দেখতে পেতো। এই পক্ষের ডাক্তার নেতা  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অঘোষিতভাবে দখল করে নিতো, সব বদলি, প্রমোশনের জন্য চিরকুটে স্লিপ যেতো, আমাদের সাবজেক্ট থেকে দেশের দক্ষিণের প্রবীন(?) নেতা,তার পাশের জেলার নব্য উঠতি নেতা, দেশের কেন্দ্রের এক বিপ্লবী পুরুষ একজন বিপ্লবী নারী (অতি আত্ম অহঙ্কারীসহ আরো কিছু সংখ্যক  তেমন লোকদের মসনদ দখলের সকল রাষ্ট্রীয় সুবিধা এককভাবে কুক্ষিগত করার যে মহোৎসব চলতো, ভাগ্যিস জাতিকে তাও দেখতে হয়নি। তাহলে কি চাঁদের এক পিঠ যেমন আমরা কোনোদিন দেখবো না, এদের মুখোশের আড়ালে যে খবিশ মুখ তাও কি আমরা দেখতে পাবো না?

যদি আপনি নীতিবান হন, সাহসী হন, দল-কানা না হন তাহলে এসব আলাল-দুলালদের মতো সময়মতো হেলে পড়া  চরিত্র  ধরতে না পারার কথা নয়। আমাদের চারপাশেই ঘাপটি মেরে বসে আছে এসব মুখোশধারী। তারা আমাদের খুবই চেনা মুখ, তবুও কতো অজানা।

লেখক : মনোবিদ

অন্যান্য সংবাদ