Skip to main content

গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপির সংসদে আসা উচিত: প্রধানমন্ত্রী

Article Highlights

‘ বিএনপি-জামায়াত জোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আমরা প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ও অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে এসেছি। তাই জনগণের বিশ্বাস-আস্থাটা আমাদের উপরে এসেছে। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করি জনগণের কল্যাণে ও স্বার্থে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বানচাল করার অপচেষ্টা করেছিল। অতীতের মতো সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনও তারা বানচালের চেষ্টা করেছে। তাদের নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা সবাই দেখেছে। তবে এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যদি মনোনয়ন বাণিজ্য না করতো, তাহলে হয়তো তাদের ফলাফল আরও একটু ভালো হতে পারতো। তারপরেও যা হয়েছে গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদেরকে সংসদে এসে কথা বলা উচিত। 

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের প্রথম যৌথসভায় সভাপতির সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা মাঠে ঘাটে, টেলিভিশনে দেখেছেন কিভাবে বিএনপি প্রচেষ্টা চালিয়েছিল কোনমতে নির্বাচনটা যেন বানচাল করা যায়। কিন্তু তা তারা পারেনি। এখন তারা নির্বাচনে হেরেছে, এই দোষটা কাকে দেবে? দোষ দিলে তাদের নিজেদেরকে দিতে হয়। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের যদি মাথাই না থাকে তাহলে দল কিভাবে নির্বাচনে জয়ের কথা চিন্তা করতে পারে। তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতিগ্রস্ত, সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামি বলেই জনগণ তাদের প্রত্যাখান করেছে। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুটের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হত্যা, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। 

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে যারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল? তারাও সবাই বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিল। এখানে ছাত্র-শিক্ষক-কৃষক-শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতী ও মেহনতি মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি আকাঙ্খা ছিল, আওয়ামী লীগ আসলে তারা ভাল থাকবে, দেশটা ভাল চলবে। আওয়ামী লীগ থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় বলেই মানুষ ভোট দিয়েছে। গত দশ বছরে জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি বলেই মানুষ বিজয়ী করেছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে আওয়ামী লীগ থাকলেই ভাগ্যের পরিবর্তন ও দেশের উন্নয়ন হয়। দেশের মানুষ এটা মনে করে বলেই সমর্থন দিয়েছে। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে। তখনই মানুষ প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছে সরকার জনগণের সেবক হতে পারে। সরকার কাজ করলে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়, এটাই প্রমাণ করতে পেরেছি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ জনগণের জন্য ছিল স্বর্ণযুগ। কিন্তু ষড়যন্ত্র কখনো থেমে যায় না। ২০০১ সালে চক্রান্ত করে আমাদেরকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। ভোট বেশি পেয়েও সরকার গঠন করতে পারিনি। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় ছিল। এ নিয়ে বেশি বলার প্রয়োজন নেই। ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে কিন্তু ভোটের হার ২০১৮ সালের চেয়ে অনেক বেশি পড়েছিল। আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে স্বাধীনতার সুফলটা পৌঁছাতে পারি, সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি বলেই মানুষের এই উপলব্ধিটা এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে তারা ভাল থাকে ও জীবনমান ও অর্থনৈতিক উন্নতি হয় এবং দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত হতে হয় না। মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। 

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আমরা প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ও অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে এসেছি। তাই জনগণের বিশ্বাস-আস্থাটা আমাদের উপরে এসেছে। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করি জনগণের কল্যাণে ও স্বার্থে। 

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রমুখ।
 

অন্যান্য সংবাদ