Skip to main content

এ মাসের শেষেই হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা!

চলতি বছর বিশ্ব ইজতেমা কবে হবে- এ নিয়ে সংশয় এখনো কাটেনি। তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষের বিরোধ এবং অনড় অবস্থানের কারণেই এই সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। কওমি ঘরানার আলেমগণ বলছেন, বিশ্ব ইজতেমার যে ব্যাপকতা, তার আয়োজন সাদ অনুসারীদের দিয়ে হবে না। এ ছাড়া দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামাদের কেউ সাদ অনুসারীদের পক্ষে নেই। অন্যদিকে সাদপন্থীরা বলছেন, ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন। সে ক্ষেত্রে তারিখ সুনির্দিষ্ট করে না দিলে তাদের অংশ নেওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড- বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আগামী ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার ও তাবলিগের উভয়পক্ষের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল ভারতের দেওবন্দ যাবেন। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা দেশে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত দেশে তাবলিগ ইস্যুতে কোনো সভা-সমাবেশ, সম্মেলন বা ওয়াজাহাতি জোড় কিছুই হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।’

এ দিকে তাবলিগের চলমান সংকট নিরসন ও গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ‘সাদপন্থী সন্ত্রাসীদের হামলা’র বিচার ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে পূর্ব নির্ধারিত উলামা ও তাবলিগি মুরব্বিদের পরামর্শ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। ৭ জানুয়ারি (সোমবার) ঢাকার উত্তরা ১৪ নং সেক্টর খেলার মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।

মাওলানা আবদুল কুদ্দুস জানান, ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত জাতীয় পরামর্শ সম্মেলনটি হচ্ছে না।’

অন্যদিকে সাদপন্থী তাবলিগের শুরা সদস্য ওয়াসিফুল ইসলাম ৩ ডিসেম্বর ইজতেমা আয়োজনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন। এর আগের দিন সাদবিরোধী পক্ষের মুরব্বিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। ২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ঐ বৈঠকে উপস্থিত থাকা সাদবিরোধী পক্ষের অন্যতম নেতা মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নির্ধারিত সময়ে ইজতেমা হবে।’

তিনি বলেন, ‘গতবারের ইজতেমার পরই এ বছরের ইজতেমা অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই তারিখই বিশ্বের সবাই জানেন। সাদপন্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মূল ইজতেমাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই তারা আলাদাভাবে তারিখ ঘোষণা করেছেন।’

পক্ষ-বিপক্ষের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে দাওয়াতের কাজ সুষ্ঠুভাবে চলুক- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘তাবলিগ জামাতের দুটি অংশের সাথেই আজ (রোববার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সেখানে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এখন ব্যস্ত আছেন। তার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্ব ইজতেমা এই মাসের শেষের দিকে হতে পারে। তবে সরকারের তরফ থেকে আমরা চেষ্টা করবো একসঙ্গে করার জন্য।’ প্রসঙ্গত, গত বছর মোট ৮৮টি দেশের ৫ হাজার ২৪ জন বিদেশি মুসল্লি বাংলাদেশে এসেছিলেন। প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।

অন্যান্য সংবাদ