Skip to main content

এসডিজির ভিত্তিভূমি হলো মানবাধিকার

সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতিসংঘ ও নানা দেশের সরকার ২০৩০ সালের জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি নির্ধারণ করে ২০১৫ সালে। এই লক্ষ্যমাত্রার সতেরটি সূচককে তাৎপর্যপূর্ণ মেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো বাস্তবায়িত হলে বৈষম্য কমিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষাও সহজ হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসডিজির ভিত্তিভূমি হলো মানবাধিকার। সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে সেই সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলো যেখানে সব মানুষের মানবাধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের ভূমিকা প্রাধান্য পেয়েছে।

এসডিজি ১ এ সামাজিক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিয়ে সব রকমের দারিদ্র দূর করার কথা বলা হয়েছে। সিডো সনদের ১১, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ অনুচ্ছেদ, ইউডিএইচআর এর ২২ ও ২৫ অনুচ্ছেদ এখানে পটভূমিকার কাজ করেছে। যার মানে দাঁড়ায়, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা আর ঔষধের ওপর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

এসডিজি ৪ এর উদ্দেশ্য হলো সার্বজনীন ও বৈষম্যহীন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

এসডিজি ৫এ আছে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা, নারীর বিরুদ্ধে অসম সুযোগ ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা, নারীর জন্য প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাঁর জন্য অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমান অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির অঙ্গীকার।

এসডিজি ৬ পূরণ হলে সবার জন্য সুপেয় পানির প্রাপ্যতা ও পরিচ্ছন্নতার অধিকার নিশ্চিত হবে। দূষণ কমবে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ও দরিদ্র  দেশগুলো এই লক্ষ্যমাত্রার আওতাভুক্ত।

এসডিজি ৮এ আছে, সার্বজনীন ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা। আছে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগের কথা। শিশুশ্রম দূর করার কথা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণের কথা।

এসডিজি ১০এ আছে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার প্রত্যয়। পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক অঙ্গনে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে সমান সুযোগ সৃষ্টির তাগিদও আছে সেখানে।

এসডিজি ১৬ বলছে, টেকসই উন্নয়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ  তৈরির কথা। সব পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে সবার জন্য বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার কথা।

এসডিজি ১৭তে আছে টেকসই দায়দেনা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বাড়ানো ও বাণিজ্য উৎসাহিত করার ঘোষণা।

দেখে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো খুব সতর্কতার সাথেই এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তার প্রমাণ? যেখানে এসডিজির সব উদ্দেশ্যকে সমন্বিত করা হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সুন্দর সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলোতে যদি এর ধারাবাহিকতা থাকে, যদি সুশীল সমাজ, ব্যক্তিখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব স্তরের মানুষ এসব কর্মসূচীতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় তাহলে লক্ষ্যপূরণ কঠিন হবে না।

চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে, তথ্য উপাত্ত সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে প্রগতির সঠিক মূল্যায়ন। তার সঙ্গে জরুরি আইনী কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা।

বিশ্লেষকরা মনে করেন বাংলাদেশ যদি স্থিতিশীলতা ধরে রেখে যথেষ্ট রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে পারে তাহলে এমডিজির মত এসডিজি অর্জনও কঠিন হবে না।

লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত, তথ্য অধিকার এবং সুশাসন বিষয়ক বিশ্লেষক

অন্যান্য সংবাদ