Skip to main content

এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার ভূমিকায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানানোই স্বাভাবিক : এম হুমায়ুন কবির

জুয়েল খান : সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেছেন, আমাদের দেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে যেভাবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে তাকে বিদেশি রাষ্ট্র চীন, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের অভিনন্দন জানানোটাই স্বাভাবিক। ১০ জানুয়ারি রাতে ডিবিসি নিউজের এক আলোচনায় তিনি একথা বলেন।  হুমায়ুন কবির বলেন, গত দশ বছর ধরে দেশে একটা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে বলেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই ভালো। দেশে স্থিতিশীলতা আছে বলেই এই অঞ্চলে উগ্রবাদী কর্মকা- ধ্যান-ধারণার বিকাশটাকে রক্ষা করা গেছে। আর এই স্থিতিশীলতা আছে বলেই দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়টাকে নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হচ্ছে না। যদিও রোহিঙ্গা ইস্যুটা এসেছে। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা অন্তত মানবিক বিষয়ে নিজেরা কষ্ট স্বীকার করে হলেও এটা মেনে নিয়েছি। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিষয়টা বুঝতে পেরেছে। কারণ বাংলাদেশ যদি বিষয়টা ইতিবাচকভাবে ম্যানেজ করতে না পারতো তাহলে কিন্তু অনেক বড় সমস্যা হতো। যদি এরা সমুদ্রে গিয়ে ভাসমান হতো তাহলে পরিস্থিতি আরো বেশি অমানবিক হতো এবং এটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটা সমস্যা হতে পারতো, এরা অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত হাজির হতে পারতো, জাপানের দিকে যেতে পারতো। সবমিলে রোহিঙ্গা ইস্যুটা এই অঞ্চলের জন্য একটা ভয়াবহ মানবিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারতো। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ দায়িত্ব নিয়ে এই বিষয়কে মোটামুটিভাবে সামাল দিয়েছে। এই ইস্যুতে ভারত-চীন বাংলাদেশের প্রতি এখন ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়টাতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা, সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার যে ধরনের ভূমিকা রেখে চলেছে এবং সবশেষ রোহিঙ্গা ইস্যুটাকে সরকার দেশের ভেতরে নিয়ে যেভাবে সফলভাবে সামাল দিয়েছে। এই সবগুলো বিষয় ইতিবাচক উপাদান, সেটা ভারতের জন্য ইতিবাচক, চীনের জন্য ইতিবাচক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও ইতিবাচক। এদিক থেকে দেখলে তারা কেনো দেশের এবারের এই নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে দেখবে না? আর এরই ধারাবাহিকতায় ভারত এবং চীন পাল্লা দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক। তিনি জানান, প্রত্যেকটা দেশই কোনো না কোনো মূল্যবোধে বিশ্বাসী। আমরা যে মূল্যবোধে বিশ্বাসী সেই মূল্যবোধকে ধারণ করে কোনো কোনো দেশ। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং সেই মূল্যবোধটাকে ধারণ করে ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমরা ব্যবসায় করি কোনো দেশের সাথে সেটাও দেখতে হবে। আমরা ভারত এবং চীন থেকে আমদানি করি এবং সেই আমদানিকৃত পণ্য আমরা মূল্য সংযোজন করে ইউরোপ আমেরিকাতে রফতানি করি। কাজেই সরাসরি আমাদেরও স্বার্থ রয়েছে। এই কারণেই আমাদের সাথে ওই সকল দেশের সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে আর সেটা স্বাভাবিক। আমাদের দেশে রাশিয়া, ভারত, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিনিয়োগ আছে কাজেই তারা আমাদের সমর্থন দেবে এটাই স্বাভাবিক।
বাইরের যে সকল দেশ আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছে তারা কিন্তু একটা ইঙ্গিত দিয়ে দিচ্ছে যে আমরা যদি সামগ্রিকভাবে সবাইকে সাথে নিয়ে এগোতে পারি তাহলে আমাদের এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাটা আরো সহজ হবে।