Skip to main content

একজন ‘হ্যাটট্রিকম্যান’ আলিসের গল্প

ষষ্ঠ বিপিএলের প্রথম হ্যাটট্রিক এলো তার হাত ধরে। দিন শেষে তার নামের পাশে সব মিলিয়ে চার উইকেট। যেন কোনো এক নাকজাদা ক্রিকেটারের গল্প এটা। কিন্তু না এটা অখ্যাত এক ক্রিকেটার আলিস আল ইসলামের কথা। দল জেতানো ইনিংসের পরও ঢাকা ডাইনামাইটসের হয়ে অভিষিক্ত স্পিনারের নাম নিয়ে ধোঁয়াশার শেষ নেই।

দলের তালিকায় নাম দেখাচ্ছে আল ইসলাম আলিস, জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোতে দেখাচ্ছে শুধু আল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজেই ধোঁয়াশা পরিস্কার করেছেন। সাভার থেকে উঠে আসা এই স্পিনারের নাম আলিস আল ইসলাম। 

প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলা আলিসকে ঢাকা ডাইনামাইটসের নেট থেকে পছন্দ করেছেন কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। ম্যাচ শেষে কৌতূহলী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলিস বলেছেন, ‘ঢাকা ডাইনামাইটসের নেট বোলার ছিলাম। এর আগে ওল্ড ডিওএইচের হয়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছিলাম। নেট বোলিং করার সময় সুজন স্যার আমাকে দেখে। দেখার পর উনার পছন্দ হয়। উনার বিশ্বাস ছিল আমি কিছু করতে পারব। তারপর আমাকে টিমে আনেন।’

২৩ বছর বয়সী আলিসের ঢাকার ক্রিকেটের শুরু হয় কাঠাল বাগানের গ্রিন ক্রিসেন্ট ক্লাব থেকে। সেখান থেকে সরাসরি বিপিএলে ঝাঁপ দেন এই স্পিনার। অভিষেকে হ্যাটট্রিক নেয়ার মত অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন, যা বিশ্বে প্রথম। এছাড়া বিপিএলের তৃতীয়তম হ্যাটট্রিকে নাম লেখান তিনি। একই সাথে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন তিনি। 

১৮তম ওভারে এসে পর পর তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের আবহ বদলে দেন তিনি। ৪৯ রান করে উইকেটে জমে যাওয়া মিঠুনকে সাজঘরের পথ দেখান। পরেই বলেই ফরহাদ রেজা ও মাশরাফিকে আউট করে হ্যাটট্রিকের উল্লাস করেন তিনি। এর আগে ৮৩ রান করে দারুণ খেলতে থাকা রাইলি রুশোকে আউট করেন। একা হাতে টানটান উত্তেজনার ভরা ম্যাচে ঢাকাকে জেতান অচেনা এই স্পিনার।

৪৯ রান নিয়ে মিঠুনকে অর্ধশতক বঞ্চিত তো করেছেনই, একই সাথে ডেথ ওভারে ফরহাদ রেজা এবং মাশরাফির উইকেট দুটি তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিকের বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ম্যাচ শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আলিস বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে প্রথম ম্যাচে ম্যাচ সেরা হওয়া আসলে অনেক বড় কিছু। আমি প্রথম দিকে কিছুটা স্নায়ুচাপে ছিলাম। দুটি ক্যাচ ছাড়ার করার পর আমাকে অধিনায়ক এবং কোচ অনেক সুন্দরভাবে সমর্থন দিয়েছে। শুধু অধিনায়ক কিংবা কোচ নয়, আমার পুরো দলের সবাই সমর্থন দিয়েছে। আমি সাহস পেয়েছি। এই কারণে আমি ভালো বোলিং করতে পেরেছি।’ 

ঢাকা ডাইনামাইটসের মতো তারকা সমৃদ্ধ দলে সাকিবের অধীনে খেলতে পারাটাকে নিজের পরম সৌভাগ্য হিসেবেও বিবেচিত করেছেন আলিস। তার ভাষায়, ‘ঢাকার মতো একটি দলের হয়ে খেলা আসলে সৌভাগ্যের ব্যাপার। বিশেষ করে সাকিব ভাইয়ের অধীনে খেলাও অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। সবমিলিয়ে দলের সবাই সমর্থন দিয়েছে। এই সমর্থনের কারণেই আমি ভালো খেলতে পেরেছি।