Skip to main content

আমরা দালাল : দলের নয়, দেশের

মুন্নী সাহাকে গালি দিতে আপনাদের খুব ভালো লাগে জানি। তাকে আওয়ামী লীগের দালাল বলতে বলতে আপনারা মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। তার অন্তত ২৮টি ফ্ল্যাটের হিসাব বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকেই পেয়েছি। প্রায় ৩০ বছর ভালো বেতনে, ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পর এ মাসেই প্রথম সে নিজের ফ্ল্যাটে উঠেছে। ১ হাজার তিনশো বর্গফুটের ফ্ল্যাটে উঠতে তার জেরবার অবস্থা দেখে আমার মায়াই লাগছে। আইএফআইসি ব্যাংক থেকে নিয়ম মেনে লোন নেয়ার পরও আজ এই খরচ তো কাল ঐ খরচ, মুন্নীর অবস্থা কেরোসিন। আমি নিশ্চিত পরজন্মে সে আর অন্তত ফ্ল্যাট কিনবে না। মুন্নীর একটা আদর্শিক অবস্থান থাকতে পারে, কিন্তু সে কারো দালাল নয়। দালাল যে নয়, তার প্রমাণ দিচ্ছি। দু’দিন আগে বঙ্গভবনে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে কার্ড না পাওয়া নিয়ে আমি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। তাতে অনেকে মন্তব্য করেছেন, আমার কার্ড পাওয়া উচিত ছিলো। আমি খুবই নগণ্য একজন সাংবাদিক। তবে ব্যক্তি প্রভাষ আমিন না হলেও এটিএন নিউজের বার্তা প্রধানের একটি আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু পাইনি। এবার বলি, আরো বিস্ময়ের কথা। মুন্নী সাহা নিছক একজন ব্যক্তি নন। তিনি ইতোমধ্যেই নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। ব্যক্তি মুন্নী সাহার কথা বাদই দেন, তিনি দেশের জনপ্রিয় ২৪ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেল এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক। ব্যক্তি হিসেবে না হলেও পদাধিকারবলে বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানে তার একটি আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার কথা ছিলো, পাননি। তার মানে সেদিন বঙ্গভবনে এটিএন নিউজের কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিলো না। তাতে খুব একটা ক্ষতি বৃদ্ধি হয়নি। আমরা অফিসে বসে লাইভ সম্প্রচার দেখেছি, নানা রিপোর্টের প্ল্যান করেছি। বঙ্গভবনে যেতে না পারায়, আমার বা মুন্নীর একটুও মন খারাপ হয়নি। খালি একটাই অনুরোধ, দালাল বলার আগে একটু জেনে নেবেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বলা, অগ্রগতির পক্ষে বলা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলা দালালি নয়। আমরা দালাল, তবে সেটা কোনো দলের নয়, দেশের, বাংলাদেশের। জয়বাংলা।
* গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গণভবনে গিয়েছিলেন দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পীরা। সে অনুষ্ঠানেও মুন্নী বা আমি আমন্ত্রণ পাইনি। অবশ্য সেটা নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। গণভবনের আমান্ত্রণ প্রটোকল মেনে হয় না। সেটা নির্ভর করে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ওপর। তবে বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানে ব্যক্তি আমন্ত্রণ না পেলেও পদের পাওয়ার কথা ছিলো, উচিত ছিলো।
* কেউ ভাববেন না, বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানের কার্ড না পাওয়ায় আমার বা মুন্নীর মন খারাপ। আমরা বরং খুব আনন্দের সাথে অফিসে বসে শপথ অনুষ্ঠান দেখেছি। হতে পারতো, কার্ড পাওয়ার পরও আমরা যেতে পারিনি। অন্য অনেক অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েও যেতে পারি না। গণভবনের অনুষ্ঠান ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের। কিন্তু বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠান প্রটোকলের বিষয়। দিনকাল সম্পাদকেরও সেখানে দাওয়াত পাওয়া উচিত। আমি খালি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটিএন নিউজ ও ব্যক্তি হিসেবে মুন্নী সাহার উপেক্ষার প্রতিবাদ জানিয়ে রাখলাম।  
লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ। ফেসবুক থেকে