Skip to main content

আবারও রাস্তায় পোশাক শ্রমিকরা, আশুলিয়ায় লাঠিচার্জ ও জলকামান নিক্ষেপ

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে আজ শনিবার সড়ক অবরোধ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এসময়  পোশাক শ্রমিকরা যাত্রীবাহী বাসসহ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। শনিবার ১২ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি কাজ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ৮ প্লাটুন বিজিবি সাভারের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার পরে পৌনে ৯টার দিকে কারখানা থেকে বের হয়ে এসে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এসময় তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে এবং পরে গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া  মিরপুর-১৪ তে সকাল থেকেই সড়ক অবরোধ করে তারা। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলছে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড় এলাকায়ও।  জানা গেছে, ওই এলাকার ৫টি গার্মেন্টস এর হাজার হাজার শ্রমিক সকালে রাস্তায় নেমে আসে। তারা সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।  উল্লেখ্য, আজ ৬ষ্ঠ দিনের মতো দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে শ্রমিকরা।

11

 

গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় আজও শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসলে কয়েকদফা পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা হয়। শ্রমিক আন্দোলনের জেরে অন্তত: ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ ও আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানায়, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবির আন্দোলনে আজ শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার টার্গেট ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-গাজীপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে ।

এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে, লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এছাড়া মোগরখাল এলাকায় বিসিএল কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিলে তাদের সঙ্গে মালিকপক্ষের লোকজনের ধাওয়া-পাল্টা হয়। নগরের কোনাবাড়ী বিসিক এলাকায় কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ সৃষ্টি করতে চাইলে পুলিশ তাদের ধাওয়া ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।

শ্রমিক আন্দোলনের কারণে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মোগরখাল এলাকাসহ আশপাশের এলাকার অন্তত ২০টি কারখানা ছুটি দেয়া হয়। গাজীপুরের শিল্প এলাকা গুলির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আজ ৬ষ্ঠ দিনের মতো দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে শ্রমিকরা।

গত ২৫ নভেম্বর পোশাকশিল্পের জন্য নতুন মজুরিকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে শ্রম মন্ত্রণালয়। তাতে নিম্নতম মজুরি ৮ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। ডিসেম্বরে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর হয়। চলতি মাস থেকে নতুন কাঠামো মেনে বাড়তি মজুরি পেতে শুরু করেন শ্রমিকেরা। তার আগে নিম্নতম মজুরি ছিল ৫ হাজার ৩০০ টাকা।

গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন মজুরিকাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বেশ কিছু কারখানার শ্রমিকেরা। বিজিএমইএ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের চেষ্টায় নির্বাচনের আগে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়। তবে গত রোববার ঢাকার উত্তরার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামেন। পরের দিনগুলোতে তা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যান্য সংবাদ