Skip to main content

আনু মুহাম্মদ বললেন, রিজার্ভের অর্থ বাংলাদেশের, অথচ বিচার করছে ফিলিপাইন, বাংলাদেশের লজ্জিত হওয়া উচিৎ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইন একজনকে সাজা প্রদান করেছে অথচ বাংলাদেশ কাউকে চিহ্নিতই করতে পারেনি, এতে বাংলাদেশের লজ্জিত হওয়া উচিৎ। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘এই অর্থের মালিক বাংলাদেশ। অথচ বিচার করছে ফিলিপাইন। বাংলাদেশের লজ্জিত হওয়া উচিৎ। বাংলাদেশে এটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। কিন্তু তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর আর কোন ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।’ 

ড. আনু মুহাম্মদের দাবি, এই ঘটনায় প্রবল ক্ষমতাবান লোকজন জড়িত। এ কারণেই এই মামলায় কোন বিচার হচ্ছেনা। এছাড়া এত বড় ঘটনার বিচারে অগ্রগতি না হওয়ার কোন কারণ থাকতে পারে না। তিনি আরো মনে করেন, ফিলিপাইনের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। এই অর্থ চুরির ঘটনা বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করেছে। যতক্ষণ না বাংলাদেশ এই ঘটনার বিচার না করবে তদন্ত কলঙ্কমুক্ত হতে পারবে না। তবে এই মামলার তদন্ত ও বিচার আদৌ হবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন এই অধ্যাপক।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ফিলিপাইনের সাবেক ব্যাংক ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোকে ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদ- দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে মায়াতে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানাও করা হয়। 

ফিলিপাইনের আদালত মায়া দেগুইতোর বিরুদ্ধে আনিত ৮টি অভিযোগের সবকটিতেই তাকে দোষি সাব্যস্ত করেছেন। বিশ্বের  অন্যতম বৃহৎ এই সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় প্রথমবারের মতো কাউকে অভিযুক্ত করে সাজা প্রদান করা হলো। ৩ বছর আগে বাংলােেশর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।

আদালত তার রায়ে বলেছেন, এই ঘটনায় ম্যানিলা ভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) এর সম্পৃক্ততা রয়েছে। আর প্রাক্তন শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতো এর দ্বায়িত্ব এড়াতে পারেননা। আদালতের রায় অনুযায়ী মায়াকে ৮ মামলায় সর্বনিম্ন ৪ বছর করে ৩২ বছর আর সর্বোচ্চ ৭ বছর করে ৫৬ বছর জেল খাটতে হবে। অর্থাৎ ৩২ বছরের আগে জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না মায়া।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই রিজার্ভ চুরির বিষয়ে সিআইডি ইতোমধ্যে একটি মামলা নিয়েছে এবং এ সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। এই অবৈধ অর্থ পাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে আরসিবিসিকে রেকর্ড পরিমাণ ১শ কোটি পেসো অর্থাৎ ১ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরসিবিসি’র সাবেক কোষাধ্যাক্ষ এবং যে শাখাটি থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল সেখানকার পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম রয়টার্সকে বলেন, আমরা আশা করি শিগগির একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো এবং এই মামলাটি দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এরমধ্যে ম্যানিলা জাঙ্কেট অপারেটর থেকে চুরি করা অর্থের মাত্র দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য আলোচনা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এই মুহুর্তে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। সম্পাদনা : ইকবাল খান

অন্যান্য সংবাদ