Skip to main content

আজ থেকে এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না : অর্থমন্ত্রী

Article Highlights

‘আমরা একটি জায়গায় ঐক্যমতে পৌঁছেছি, মূল যে এলাকা, মূল যে চিন্তা সেটি হচ্ছে ননপারফরমিং লোন। এটি আপনাদের উৎকণ্ঠা, জাতির উৎকণ্ঠা, আমাদের উৎকণ্ঠা এবং আমার উৎকণ্ঠা, তবে আমার উৎকণ্ঠা কিছুটা কম। কেননা এরই মাঝে আমি দেখেছি যেভাবে যে পরিমাণ পত্র পত্রিকায় লেখা হয়, সে পরিমান ননপারফরমিং লোন না।’

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন: আজ থেকে আর এক টাকারও খেলাপি ঋণ বাড়বে না। এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে তাও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বসার আগেই আমার শর্ত ছিল একটা। কোন কিছু আলাপ করার আগে আমার এক দফা। আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না। আপনারা কিভাবে বন্ধ করবেন, কিভাবে টেককেয়ার করবেন, কিভাবে ম্যানেজ করবেন সেটা আপনাদের ব্যাপার।

অর্থমন্ত্রী জানান: তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। তাই বলছি আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ বাড়বে না, ইনশাআল্লাহ। ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনা করেছি। তারাই ব্যাংকের মালিক। সবাই প্রায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে যেসব আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আপনাদের কাছ থেকে ব্যাংকিং খাতের যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো ভেরিফাই করবো, এভালুয়েট করবো, মূল্যায়ন করবো। এ জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে। এই মূল্যায়ন শেষ হলে আমরা একটি ব্যবস্থায় যাব।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা একটি জায়গায় ঐক্যমতে পৌঁছেছি, মূল যে এলাকা, মূল যে চিন্তা সেটি হচ্ছে ননপারফরমিং লোন। এটি আপনাদের উৎকণ্ঠা, জাতির উৎকণ্ঠা, আমাদের উৎকণ্ঠা এবং আমার উৎকণ্ঠা, তবে আমার উৎকণ্ঠা কিছুটা কম। কেননা এরই মাঝে আমি দেখেছি যেভাবে যে পরিমাণ পত্র পত্রিকায় লেখা হয়, সে পরিমান ননপারফরমিং লোন না। দেশে ননপারফরমিং লোনের হার ১১ থেকে ১২ শতাংশ। এর চেয়ে অন্যান্য দেশে আরো বেশি। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও আরো বেশি। ননপারফরমিং লোন কমলে ব্যাংক সুদের হার কমে যাবে, সুতরাং এটা কোনভাবেই বাড়তে দেওয়া হবে না।

‘এখানে যারা এসেছেন তারা নিশ্চিত করেছেন খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না বরং যা আছে সেটিও ধীরে ধীরে কমাবেন। কিভাবে কমাবেন সেটি পরবর্তী মিটিং এ বসে সিদ্ধান্ত নেব।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যারা ব্যবসা করে বাংলাদেশে তারা সবাই প্রভাবশালী। পৃথিবীতে যারা ব্যবসা বাণিজ্য করেন সবাই প্রভাবশালী। প্রভাবশালী দুরকম যারা রাজনীতি করেন তারাও প্রভাবশালী, যারা ক্রিকেট ভাল খেলে তারাও প্রভাবশালী, ব্যবসা বাণিজ্য যারা করে তারাও প্রভাবশালী। ব্যবসায়ীরা যদি প্রভাবশালী না হয় তাহলে বিনিয়োগ কিভাবে আসবে? কোথা থেকে কর্মসংস্থান হবে, কিভাবে হবে, দারিদ্র্য কিভাবে কমবে। প্রভাবশালী যারা যারা ব্যবসা বাণিজ্য করে তারা অর্থনীতির ৮২ শতাংশ। এদেরকে বাদ দিয়ে ১৮ শতাংশ নিয়ে অর্থনীতি সাজানো সম্ভব নয়। এটা করতে চাওয়াটাও একটা অবাস্তব চিন্তা। তাদেরকে ব্যবসা করতে সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে ঋণ খেলাপি না হয়ে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালসহ ব্যাংক মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য সংবাদ